Showing posts with label কুফুরী. Show all posts
Showing posts with label কুফুরী. Show all posts

Sunday, 12 April 2015

পহেলা বৈশাখ পালন হারাম

প্রকৃত পক্ষে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান হচ্ছে হিন্দু, মুশরিক, মজুসী ও বৌদ্ধদের।
এতে তারা পান্তা খায়, গান-বাজনা করে, র্যা লী করে, জীব-জানোয়ারের মুখোশ পরে, মিছিল করে, শরীরের নানা অঙ্গ-প্রতঙ্গে উল্কি আঁকে, ডুগডুগি বাজিয়ে নেচে নেচে হৈহুল্লোড় করে, পুরুষরা ধুতি ও কোণাকাটা পাঞ্জাবী যা হিন্দুদের জাতীয় পোশাক তা পরে, মেয়েরা লাল পেড়ে সাদা শাড়িসহ হাতে রাখি বাঁধে, শাঁখা পরে, কপালে লাল টিপ ও চন্দন এবং সিথিতে সিঁদুর দেয়, বেপর্দা, বেহায়া হয়-


যা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও কুফরী।

নবীজী বলেন- যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে সে তাদের দলভুক্ত এবং তার হাশর-
নশর তাদের সাথেই হবে। (আবু দাউদ, মিশকাত শরীফ)

হযরত আমর বিন শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ঐ ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে বিজাতীয়দের সাথে সাদৃশ্য রাখে। (মিশকাত)

আল্লাহ তায়ালা বলেন-
"অতএব, তারা যেসবের উপাসনা করে তুমি সে ব্যাপারে কোনরূপ ধোঁকায় পড়বে না।তাদের পূর্ববর্তী বাপ-দাদারা যেমন পূজা উপাসনা করত, এরাও তেমন করছে। আর নিশ্চয় আমি তাদেরকে আযাবের ভাগ কিছু মাত্রও কম না করেই পুরোপুরি দান করবো। [হুদঃ ১০৯]"

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন-
"যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে এমন বস্তুর পূজাকরে, যে কেয়ামত পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? তারা তো তাদের পুজাসম্পর্কেও বেখবর। [আল  হ্ক্বাফঃ ৫]"

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন-
"হে ঈমানদারগণ! এ মদ, জুয়া, মূর্তি পূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শরসমূহ এ সমস্তই হচ্ছে ঘৃণ্য শয়তানী কার্যকলাপ। এগুলো থেকে দূরে থাকো, আশা করা যায় তোমরা সফলতা লাভ করবে। [সুরা মায়েদা: ৯০]"

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন-
হযরত আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত আছে- প্রিয় নবী (সা:) বলেন, বিচারের দিন ঐ সকল লোক সর্বাপেক্ষা কঠোর শাস্তিভোগ করবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির অনুসরণে জীবজন্তুর প্রতিকৃতি অঙ্কন বা নির্মাণ করে। (সহীহ বুখারী)

অন্য এক হাদীসে হযরত আবু তালহা (রা:) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা:) বলেন, যে গৃহে কুকুর অথবা কোনো প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। (বুখারী, খ.২/পৃ. ৮৮০)

পহেলা বৈশাখ বা অন্য কোনো উপলক্ষ্যে ছেলেমেয়েদেরকে বেপর্দা ও বেহায়পনার সুযোগ দিবেন না। তাদেরকে বুঝান ও নিয়ন্ত্রণ করুন। আপনি মসজিদে নামায আদায় করছেন আর আপনার ছেলেমেয়ে পহেলা বৈশাখের নামে বেহায়াভাবে মিছিল বা উৎসব করে বেড়াচ্ছে। আপনার ছেলেমেয়ের পাপের জন্য আপনার আমলনামায় গোনাহ জমা হচ্ছে। শুধু তাই নয়। অন্য পাপ আর অশ্লীলতার পার্থক্য হলো, যে ব্যক্তি তার স্ত্রী-সন্তানদের বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার সুযোগ দেয় তাকে ‘‘দাইউস’’ বলা হয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারংবার বলেছেন যে,
»ثلاثة قد حرم الله عليهم الجنة مدمن الخمر والعاق والديوث الذي يقر في أهله الخبث«
তিন ব্যক্তি আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাত হারাম করেছেন, মাদকাসক্ত, পিতা-মাতার অবাধ্য এবং দাইউস, যে তার পরিবারের মধ্যে ব্যভিচারকে প্রশ্রয় দেয়(মুসনাদে আহমাদ: ২/৬৯)

নিজেকে এবং নিজের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করার পাশাপাশি মুমিনের দায়িত্ব হলো সমাজের মানুষদেরকে সাধ্যমত ন্যায়ের পথে ও অন্যায়ের বর্জনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কাজেই পহেলা বৈশাখ ও অন্য যে কোনো উপলক্ষ্যে ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশা ও বেহায়াপনার ক্ষতি, অন্যায় ও পাপের বিষয়ে সবাইকে সাধ্যমত সচেতন করুন। যদি আপনি তা করেন তবে কেউ আপনার কথা শুনুক অথবা না শুনুক আপনি আল্লাহর কাছে অফুরন্ত সাওয়াব লাভ করবেন। আর যদি আপনি তা না করেন তবে এ পাপের গযব আপনাকেও স্পর্শ করবে। কুরআন ও হাদীসে বিষয়টি বারংবার বলা হয়েছে।

ব্যবসায়িক, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো স্বার্থে অনেক মুসলিম পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশা ও বেহায়াপনার পথ খুলে দেওয়ার জন্য মিছিল, মেলা ইত্যাদির পক্ষে অবস্থান নেন। আপনার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য এরচেয়ে ভয়ঙ্কর আর কিছুই হতে পারে না।

আসুন আমরা সবাই পাপ থেকে বাঁচার চেষ্টা করি এবং অন্যকে খারাপ পথ থেকে ফিরাই-
আল্লাহ বলেছেন:
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ قُوٓاْ أَنفُسَكُمۡ وَأَهۡلِيكُمۡ نَارٗا وَقُودُهَا ٱلنَّاسُ وَٱلۡحِجَارَةُ عَلَيۡهَا مَلَٰٓئِكَةٌ غِلَاظٞ شِدَادٞ لَّا يَعۡصُونَ ٱللَّهَ مَآ أَمَرَهُمۡ وَيَفۡعَلُونَ مَا يُؤۡمَرُونَ ٦ ﴾ [التحريم: ٦]
‘‘তোমরা নিজেরা জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষা কর এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। যার ইন্দন হবে মানুষ ও পাথর; যার উপর নিয়োজিত রয়েছেন কঠোর হৃদয় সম্পন্ন ফিরিশতাগণ, তারা আল্লাহ যা নির্দেশ করেন তা বাস্তবায়নে অবাধ্য হোন না, আর তাদের যা নির্দেশ প্রদান করা হয়, তা-ই তামিল করে’’[সূরা আত-তাহরীম: ৬]

আল্লাহ আমাকে সহ সবাইকে বুঝার এবং মেনে চলার তৌফিক দান করুক।

........Imrul Kaesh

Sunday, 5 April 2015

জ্যোতিষশাস্ত্র, ভাগ্যগণনা, তাবিজ, জাদু ইত্যাদি সর্ম্পকে ইসলাম কি বলে ?

জ্যোতিষশাস্ত্র, ভাগ্যগণনা, তাবিজ, জাদু
----------------------------------------------
ভাগ্যগণনার ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। আল্লার রাসূল (সা:) বলেছেন:

“কেউ যদি কোন ভাগ্যগণনাকারীর কাছে যায় এবং তার নিকট কোন কিছু জানতে চায়, তবে ঐ ব্যাক্তির সালাত ৪০ দিন এবং রাত পর্যন্ত কবুল হবে না।” (মুসলিম)

এটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার আসমা ওয়া সিফাতের ক্ষেত্রে শিরক কেননা ভবিষ্যতের জ্ঞান কেবল আল্লাহ পাকই রাখেন, আর গায়েবের খবরও আছে কেবল তাঁরই নিকট।

আমাদের দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ভাগ্যগণনাকারী তাঁর বিজ্ঞাপন প্রচার করেন এভাবে:

এ বিজ্ঞাপনে তিনি স্পষ্টতঃ দাবী করছেন যে তিনি ভবিষ্যতের খবর রাখেন – যা কিনা পরিষ্কার শিরক। তাছাড়া তিনি রত্ন-পাথরের সাথে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নাম যুক্ত করে একে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা চালিয়েছেন। অথচ রত্ন-পাথরকে ভাগ্য নিয়ন্তা মনে করলে তাও পরিষ্কার শিরক হবে।
তাবিজ, কবচ, ঝাড়ফুঁক, বশীকরণ

সৌভাগ্য লাভের আশায় এবং মন্দভাগ্য দূর করার জন্য প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত বহু মানুষ তাবিজ, লোহা-পিতল-তামার চুড়ি, মালা, ঝিনুক পরে, গাড়ীতে বা বাড়ীর দরজায় বা চাবির রিঙে বিভিন্ন আয়াত লেখা ফলক ঝুলায়, বা কুনজর থেকে বাঁচার জন্য ছেলেমেয়ের গায়ে মুক্তা বা হাড়ের তৈরী মালা, বা কালো সূতা বাঁধে। এ সম্পর্কে মুসলিম উলেমার মতামত দুভাগে বিভক্ত।

১) কুরআনের আয়াত লিখিত তাবিজ ছাড়া আর সব ধরনের তাবিজ জাতীয় জিনিস হারাম – এ ব্যাপারে সকলেই একমত।

২) কুরআনের আয়াত লিখিত তাবিজ কারো কারো মতে জায়েজ, কারো কারো মতে না-জায়েজ। এইসব জিনিসকে (তাবিজ জাতীয়) আরবীতে তামা’ইম (একবচনে তামীমা) বলা হয়। এসম্পর্কে যে সব হাদীস পাওয়া যায় সেগুলি হচ্ছে:

আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদের (রাঃ) স্ত্রী যায়নাব আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদের (রাঃ) কাছ থেকে বর্ণনা করেন: “আমি রাসূল (স) কে বলতে শুনেছি যে ঝাড়ফুঁক তাবিজ ও কবচ হচ্ছে শিরক।” আমি বললাম, ‘আপনি কেন একথা বললেন? আল্লাহর কসম, আমার চোখ দিয়ে অসুখের কারণে পানি ঝরছিল এবং আমি অমুক ইহুদীর কাছে গিয়েছিলাম, সে ঝাড়ফুঁক করতেই পানি পড়া বন্ধ হয়ে গেল।’ আব্দুল্লাহ বললেন, ‘এটা শয়তানের কারসাজি ছিল, সে তার হাত দিয়ে তোমার চোখে খোঁচা দিচ্ছিল, ইহুদীটি মন্ত্র উচ্চারণ করতেই সে থেমে গেল। কারণ যখন তুমি তাকে মেনে নিচ্ছিলে সে থেমে যাচ্ছিল আর যখন তুমি তার অনুগত হচ্ছিলে না তখন সে খোঁচা দিচ্ছিল। তোমার যা বলা উটিত ছিল তা হচ্ছে এই দু’আ: ইযহাবিল বা’স রাব্বান নাস ওয়া আশফি আনতা আশ শাফি’ লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা, শিফা’ আল লা ইউঘাদিরু সাকামান।’ (অর্থ: মন্দ দূর কর, হে মানবজাতির রব, এবং সুস্থতা দাও, তুমিই সুস্থতা দানকারী। তোমার আরোগ্য ছাড়া কোন আরোগ্য নেই, এমন আরোগ্য যা রোগের কোন চিহ্ন রাখে না।) (আবু দাউদ ৩৮৮৩; ইবন মাজাহ ৩৫৩০, মুহাদ্দিস শাইখ নাসরুদ্দিন আলবানী এই হাদীসকে সহীহ্‌ বলেছেন)
উকবা ইবন আমির (রাঃ) বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সা) কে বলতে শুনেছি: “যে তাবিজ পরবে, আল্লাহ যেন তার কোন অভাব পূরণ না করেন, এবং যে ঝিনুক পরবে, আল্লাহ যেন তাকে শান্তি না দেন।” (আহমাদ ১৬৯৫১, মুহাদ্দিস শাইখ নাসরুদ্দিন আলবানী এই হাদীসকে যয়ীফ বলেছেন)
উকবা ইবন আমির আল জুহানী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, “রাসূল (সা) এর কাছে দশজনের একটি দল বাইয়াত হতে এসেছিল। রাসূল (সা) তাদের মধ্যে নয়জনের বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) গ্রহণ করলেন, একজন বাদে। তারা বলল, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ, আপনি একজন বাদে আর নয়জনের বাইয়াত গ্রহণ করলেন কেন?’ তিনি বললেন, ‘সে তাবিজ পরে আছে।’ লোকটি তখন তার শার্টের ভিতর হাত ঢুকিয়ে তাবিজ বের করে ভেঙ্গে ফেলল, তখন রাসূল (সা) তার বাইয়াত নিলেন। তিনি বললেন, ‘যে তাবিজ পরে, সে শিরক করেছে।’” (আহমাদ; তিরমিযী, মুহাদ্দিস শাইখ নাসরুদ্দিন আলবানী এই হাদীসকে সহীহ্‌ বলেছেন)
ইমরান ইবন হুসাইন (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যখন রাসূল (সা) এক ব্যক্তির বাহুতে পিতলের বালা দেখতে পেলেন, জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার ধ্বংস হোক! এটা কি?” সে বলল, “এটা তাকে একটা রোগ যার নাম আল-ওয়াহিনা (দুর্বলতা, সম্ভবত: বাত), তা থেকে রক্ষা করবে।” রাসূল (সা) তখন বললেন “ওটা ছুঁড়ে ফেলে দাও, কারণ এটা তোমার দুর্বলতাই বৃদ্ধি করবে এবং যদি তুমি এটা পরা অবস্থায় মারা যাও, তুমি কখনও সফল হবে না।” (আহমাদ; ইবন মাজাহ; ইবন হিব্বান)
সুস্থ বা অসুস্থ লোকেরা তামা, পিতল বা লোহার চুড়ি, বালা বা আংটি পরবে এই বিশ্বাসে যে সেগুলি রোগ সারাতে পারে – এটা নিষিদ্ধ। রাসূল (সা) বলেন “তোমরা অসুস্থতার চিকিৎসা কর, কিন্তু হারাম জিনিস দিয়ে চিকিৎসা করো না।” (আবু দাউদ, বায়হাকী)
ঈসা ইবন হামযা (রাঃ) বলেন: “আমি আব্দুল্লাহ ইবন আকিমকে (রাঃ) দেখতে গিয়েছিলাম, তাঁর মুখ জ্বরে লাল হয়ে গিয়েছিল। আমি বললাম, ‘আপনি কেন তাবিজ ব্যবহার করছেন না?’ তিনি বললেন, ‘আমরা এ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। রাসূল (সা) বলেছেন: যে কোন ধরনের তাবিজ পরবে সে সেটার অধীনে আছে বলে বিবেচিত হবে… ’ ”(অর্থাৎ সে তারই উপর নির্ভরশীল) (আবু দাউদ)
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) একদিন তাঁর স্ত্রীকে দেখলেন একটি গিঁট দেয়া সূতা গলায় পরতে। তিনি সেটা টেনে ছিঁড়ে ফেলে বললেন, “আব্দুল্লাহর পরিবার আল্লাহর সাথে অন্য কোন কিছুকে শরীক করা থেকে মুক্ত।” তারপর তিনি বললেন, “আমি আল্লাহর রাসূল (সা) কে বলতে শুনেছি: ঝাড়ফুঁক, তাবিজ ও বশীকরণ এগুলি হচ্ছে শিরক।”

যারা কুরআনকে ছোট আকারে তাবিজ হিসেবে ব্যবহার করে, বা কুরআনের আয়াতকে তাবিজ হিসেবে ব্যবহার করে, তারা খুব সহজেই শিরকের শিকার হতে পারে। এর ফলে তাবিজের উপর নির্ভরতা এসে পড়ে, যা শিরক। কেউ যদি গহনা হিসেবে আয়াতুল কুরসী লেখা লকেট ইত্যাদি পরে, তাতে কোন অসুবিধা নেই। শিরকমুক্ত থাকার জন্য যা অনেকের মতে জায়েজ, তাতেও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ।

যে সব আলেমরা সবধরনের তাবিজ ব্যবহার নাজায়েজ বলেন তাঁদের মতামত:

১) কুরআন ছাড়া অন্য যে কোন ধরণের চিহ্ন, নকশা, মন্ত্র সম্বলিত তাবিজ ব্যবহার হারাম, এ ব্যাপারে আলেমরা একমত। কুরআনের আয়াত লেখা তাবিজের ব্যাপারে কেউ সেটাকে জায়েজ বলছেন, কেউ নাজায়েজ বলছেন। শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বায, শাইখ আবদুল্লাহ বিন ঘাদিয়ান, শাইখ আবদুল্লাহ বিন ক্বা’উদ সকল প্রকার তাবিজকে নাজায়েজ বলেছেন।

২) শাইখ নাসরুদ্দিন আলবানী বলেন: “বেদুইন, কৃষক ও শহরবাসীদের মাঝে এই ভুল ধারণা এখনও বহুল প্রচলিত। উদাহরণ হিসাবে আমরা নিতে পারি গাড়ীতে ঝুলানো মুক্তা (ড্রাইভার কর্তৃক), কেউ কেউ গাড়ীর সামনে বা পিছনে পুরনো জুতা ঝুলায়, কেউ কেউ তাদের বাসা বা দোকানের সামনে অশ্বক্ষুরাকৃতি লোহা ঝুলায়। এসবই কুনজর থেকে বাঁচার জন্য, অন্ততঃ তারা তাই দাবী করে। এবং আরো অনেক কিছুই আছে যা তাওহীদ সর্ম্পকে অজ্ঞতার জন্য প্রসার পেয়েছে, যে তাওহীদ শিরক ও মূর্তিপূজাকে উৎখাত করার জন্য এসেছে, রাসূলগণ ও কিতাবসমূহের মাধ্যমে। আমরা বর্তমানের মুসলিমদের অজ্ঞতা ও তাদের ধর্ম থেকে বহুদূরে সরে যাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছেই শুধু অভিযোগ আনতে পারি। (সিলসিলাত আল আহাদীস আস-সহীহা ১/৮৯০, ৪৯২)
রিয়া:

হাদীস: মাহমুদ ইবন লুবাইদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন:
“রাসূল (সা) বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য আমি যা সবচেয়ে বেশী ভয় করি, তা হল ছোট শিরক বা শিরক আল আসগার।’ সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ, ছোট শিরক কি?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘রিয়া (লোক দেখানোর জন্য কাজ করা), নিশ্চয়ই আল্লাহ পুনরুত্থান দিবসে প্রতিদান দেওয়ার সময় লোকদের বলবেন, ”পার্থিব জীবনে যাদেরকে দেখানোর জন্য তোমরা কাজ করেছিলে, তাদের কাছে যাও এবং দেখ তাদের কাছ থেকে কিছু আদায় করতে পার কিনা।’ ” (আহমাদ, বায়হাকী)

আরেকটি হাদীসে মাহমুদ ইবন লুবাইদ (রাঃ) বলেন,
“রাসূল (সা) বের হয়ে এলেন এবং ঘোষণা করলেন, ‘হে জনগণ, গোপন শিরক সম্বন্ধে সাবধান!’ লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ, গোপন শিরক কি?’ তিনি বললেন, ‘যখন কেউ সালাতে দাঁড়ায় এবং লোকে তাকিয়ে দেখছে জেনে তার সালাত সুন্দরভাবে আদায়ের চেষ্টা করে; এটাই গোপন শিরক।’ ” (ইবন খুযাইমা)

লোকের প্রশংসা পাওয়ার জন্য এবং লোক দেখানোর জন্য কোন ইবাদত করাকেই রিয়া বলা হয়। রিয়ার কারণে সমস্ত সৎকর্ম ধ্বংস হয়ে যায় এবং রিয়াকারী শাস্তির যোগ্য হয়। কোন কাজের জন্য মানুষের প্রশংসা পাওয়া ও সমাজে মর্যাদা ও খ্যাতি লাভের বাসনা মানুষের স্বভাবজাত। তাই নিজের ব্যাপারে অন্যকে ভাল ধারণা দেওয়ার চেষ্টা স্বাভাবিক ভাবেই ধর্মীয় কাজ বা সৎকাজ করার সময় মনে আসতে পারে – সেজন্য সতর্কতা অত্যন্ত জরুরী। বিশেষ করে যারা তাদের জীবন আল্লাহর বিধি-বিধান মেনে অতিবাহিত করতে চান, তাদের জন্য তা আরও জরুরী। বড় শিরক থেকে বাঁচা সহজ, কিন্তু রিয়া অত্যন্ত গোপন বলেই তা থেকে বেঁচে থাকা কষ্টকর, কেননা একজন মানুষের নিয়ত খুব সহজেই পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে।

ইবন আব্বাস (রা) এ সম্পর্কে বলেন,
“কোন চন্দ্রবিহীন মধ্যরাতের অন্ধকারে কালো পাথরের উপর কালো পিঁপড়ার চুপিসারে চলার চেয়েও গোপন হচ্ছে শিরক।” (ইবন আবী হাতিম)

এ কারণে সৎকর্ম করার শুরুতে এবং করার সময় নিয়তের বিশুদ্ধতার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। এটা নিশ্চিত করার জন্য ইসলামে সব কাজ আল্লাহর নামে শুরু করাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও দৈনন্দিন জীবনের সব কাজ যেমন খাওয়া, পরা ঘুমানো ইত্যাদি সবকিছুর জন্য বিভিন্ন দু’আ আল্লাহর রাসূল (সা) শিখিয়েছেন, যাতে আমাদের সব কাজই আল্লাহর ইবাদত হয়ে যায় এবং আমরা সর্বক্ষণ আল্লাহর উপস্থিতি অনুভব করি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা সম্পর্কে এই সচেতনতাই হচ্ছে তাকওয়া, যা আমাদের নিয়তের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে। অনিবার্য শিরকের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য রাসূল (সা) দু’আ শিখিয়েছেন। আবু মুসা বলেন, “একদিন আল্লাহর রাসূল (সা) এক ভাষণে বললেন ‘হে লোকসকল, শিরককে ভয় কর, কারণ এটি পিঁপড়ার চুপিসারে চলার চেয়েও গুপ্ত।’ যারা আল্লাহ চেয়েছিলেন জিজ্ঞাসা করল, ‘আমরা কিভাবে এ থেকে বেঁচে থাকব যদি তা পিঁপড়ার চলার চেয়েও গুপ্ত হয়, ইয়া রাসূলুল্লাহ?’ তিনি বললেন,

‘বল! আল্লাহুম্মা ইন্না নাউযুবিকা আন নুশরিকা বিকা শাইআন না’লামুহু, ওয়া নাসতাগফিরুকা লিমা লা না’লামুহু।’ ”
‘হে আল্লাহ, আমরা জেনে বুঝে শিরকে লিপ্ত হওয়া থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, আর আমরা না জেনে শিরকে পতিত হওয়ার ব্যাপারে আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি।’

একটি হাদীস কুদসীতে আবু হুরায়রা (রা) আল্লাহর রাসূল (সা) থেকে বর্ণনা করেন:

“পুনরুত্থান দিবসে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির বিচার করা হবে সে হচ্ছে একজন শহীদ। তাকে আল্লাহর সম্মুখে আনা হবে, আল্লাহ তাকে প্রদত্ত তাঁর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন, সে স্বীকার করবে। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তখন বলবেন: ‘তুমি আমার অনুগ্রহের কি প্রতিদান দিয়েছো?’ সে বলবে: আমি আপনার জন্য জিহাদ করে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তখন বলবেন: তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি এজন্য জিহাদ করেছ যে লোকে যেন তোমাকে বীর বলে। সাহসী বলে। তা তো বলা হয়েছে। আজ আমার কাছে তোমার কোন প্রতিদান নেই। তখন তাকে তার মুখের উপর টেনে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামে। আরেকজন হবে কুরআনের জ্ঞানে জ্ঞানী, সে অন্যকে শিক্ষা দিত, কুরআন তিলাওয়াত করত। তাকে আল্লাহর সম্মুখে আনা হবে এবং আল্লাহ তাকে প্রদত্ত স্বীয় অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। সে স্বীকার করবে। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করবেন; ‘তুমি কিভাবে আমার অনুগ্রহের হক আদায় করেছো? সে বলবে: আমি জ্ঞান অর্জনের জন্য চেষ্টা করেছি, তা শিক্ষা দিয়েছি এবং কুরআন তিলাওয়াত করেছি আপনারই জন্য। আল্লাহ তখন বলবেন: তুমি মিথ্যাবাদী – তুমি এজন্যই এগুলো করেছিলে যে লোকে তোমাকে বলবে তুমি জ্ঞানী, ক্বারী। লোকে তাই বলেছে, তুমি তোমার প্রাপ্য পেয়ে গেছ। আজ তোমার কোন পাওনা নেই। তখন তাকে উল্টো করে ধরে টেনে নিয়ে জাহান্নামে ফেলে দেওয়ার হুকুম করা হবে। আরেকজন ধনী ব্যক্তিকে আনা হবে, যাকে আল্লাহ তাঁর সমস্ত অনুগ্রহ স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং সে স্বীকার করবে। আল্লাহ বলবেন, আমার দেওয়া ধন সম্পদ তুমি কি কজে লাগিয়েছো। সে উত্তর দেবে: আমি আপনার জন্য ধনসম্পদ ব্যয়ের কোন রাস্তাই বাকী রাখিনি অর্থাৎ সকল প্রকার সৎকাজে অর্থ ব্যয় করেছি। আল্লাহ তখন বলবেন: তুমি মিথ্যাবাদী – তুমি এজন্য সম্পদ দান করেছ যাতে লোকে তোমাকে দানবীর বলে। সেই খ্যাতি তো তুমি পেয়েছ। আজ তোমার আর কিছুই পাওনা নেই। তারপর তাকে উল্টোভাবে ধরে টেনে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে ফেলে দেয়ার হুকুম করা হবে।” (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)

সুতরাং অদৃশ্য বা ভবিষ্যতের যে ঘটনা বা বিষয় লক্ষণ বিশ্লেষণে প্রমাণিত নয়, আমাদের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়, সেটি সঠিক বৈজ্ঞানিক সূত্র দ্বারাও সমর্থিত নয় এবং সে সম্পর্কে কোরআন বা হাদিসেও কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না, সে সম্পর্কে বিশ্বাস স্থাপন ঈমানের প্রশ্নে যেমন শিরকি, যুক্তির বিচারেও তা নির্বুদ্ধিতা।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করুক